বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করায় গ্রেপ্তার হওয়া অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানের প্রতিবাদ শতভাগ কাজে লেগেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, আখতারুজ্জামানের প্রতিবাদের পর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মানে পরিবর্তন এসেছে। লাগেজ পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা, ট্রলি সংকট ও লাগেজ চুরির মতো সমস্যার সমাধানে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীতে মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে আখতারুজ্জামানের কারামুক্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। শফিকুর রহমান বলেন, ‘একজন যাত্রী যদি এয়ারপোর্টে নামার পরে তিন ঘণ্টা তাকে তার লাগেজ পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়, তারপরে লাগেজের এক অংশ আসে, আরেক অংশ আসে না— তাহলে মেজাজ কার ঠিক থাকে, বলেন?’
তিনি বলেন, আখতারুজ্জামান কারও গায়ে হাত দেননি। অথচ তার বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা ও সরকারি কর্মকর্তার গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আখতারুজ্জামানের প্রতিবাদের পর বিমানবন্দরে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘ইতিমধ্যে দেখেছেন— দুই দফায় ৩০০ ট্রলি নতুন করে সংযোজিত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, লাগেজ চুরি ও ব্যাগ কাটার ঘটনা ঠেকাতে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মীদের শরীরে বডি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। এখন যাত্রীরা ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে লাগেজ পাচ্ছেন। আপনার প্রতিবাদ শতভাগ কাজে লেগেছে, কাজ দিচ্ছে,’ বলেন জামায়াত আমির। আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে দেশবাসী ও প্রবাসীদের ভূমিকার প্রশংসা করে শফিকুর রহমান বলেন, বিভিন্ন দেশে প্রবাসীরা সভা, মিছিল এমনকি দূতাবাস ঘেরাও করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আখতারুজ্জামান প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রীদের অধিকার নিয়ে কথা বলেছেন শফিকুর রহমান বলেন, ‘জেল তো বহু খেটেছি, অনেক প্রতিবাদও করেছি। সঙ্গে সঙ্গে কিন্তু রেজাল্ট পাইনি, আপনি পেয়ে গেছেন।’
আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা, তাকে রিমান্ডে নেওয়া এবং আদালতে জামিন পেতে বিভিন্ন পর্যায়ে বাধার মুখে পড়ার প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির বলেন, ‘মামলা দিয়েছেন মিথ্যা, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে। তারপরে নিলেন রিমান্ডে, এটাও আরেকটা লজ্জা।’
সরকারের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের পাহাড়সম অব্যবস্থাপনা, অযোগ্যতা, অদক্ষতা চাপা দেওয়ার জন্য এখন বিরোধী দলকে অপপ্রচারের লক্ষ্যস্থলে পরিণত করা হয়েছে। বিরোধী দলের সমালোচনা বাদ দিয়ে সরকারের ব্যর্থতা সমাধানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের চরিত্র হনন বাদ দিয়ে আপনাদের ব্যর্থতার সমাধানের চেষ্টা করুন। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘যতদিন পর্যন্ত অধিকার, জনগণের অধিকার জনগণের হাতে ফিরে না যাবে, আমাদের লড়াই ততদিন চলবে।’